গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রতারণার জেরে এক পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক বৃদ্ধসহ নারী ও তরুণী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় ভুক্তভোগীদের নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলের দিকে উপজেলার তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোঃ খাদেমুল ইসলাম (৪৮) বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে পলাশবাড়ী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে নামীয় অভিযুক্ত আসামীরা হলেন— ১. মোঃ খালেক আকন্দ (৫৫), ২. মোঃ আমিন আকন্দ (৩০), ৩. মোঃ বাকী আকন্দ (৫৭), ৪. মোছাঃ মালিহা আক্তার (৩৫), ৫. মোছাঃ শাহনাজ বেগম (৫৫), ৬. মোছাঃ মুক্তি আক্তার (৩০), ৭. মোঃ সজিব আকন্দ (৩০) এবং ৮. মোছাঃ আনোয়ারা বেগম (৫০)। তাঁরা সকলেই তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ মাস আগে বাদী খাদেমুল ইসলাম ৭নং আসামী সজিব আকন্দের পিতা মৃত আব্দুল মালেক আকন্দের কাছ থেকে ৫ শতাংশ জমি কেনার উদ্দেশ্যে বায়না বাবদ ১,৩০,০০০ (এক লাখ ত্রিশ হাজার) টাকা প্রদান করেন, যার মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২,৭৫,০০০ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী বাকি টাকা রেজিস্ট্রি দেওয়ার দিন পরিশোধ করার কথা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে জমি সংক্রান্ত দলিল সম্পন্ন করার পূর্বেই আব্দুল মালেক আকন্দ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে তাঁর ওয়ারিশরা জমি রেজিস্ট্রি দিতে অস্বীকার করেন এবং বায়নার টাকাও ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করেন।
ঘটনার দিন ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামীরা লোহার রড, বাঁশের লাঠি, দা, হাঁসুয়া, চাইনিজ কুড়াল ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বসতবাড়ির আঙিনায় অনধিকার প্রবেশ করে গালাগাল করতে থাকে।
প্রতিবাদে বাদীর পিতা আবুল কালাম আকন্দ এগিয়ে এলে ১নং আসামী খালেক আকন্দের হুকুমে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডান পায়ের হাঁটুতে লোহার রড দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে অন্যান্য আসামীরা তাকে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে বুক, পিঠ ও মাথায় গুরুতর জখম করে। গুরুতর রক্তাক্ত হয়ে সেই দিনেই গাইবান্ধা জেলা সদর ভর্তি হয়। চিকিৎসক বৃদ্ধা আবুল কালামের মাথায় ৮টি সেলাই দেয় হয়। তবে এখনো সংকটাপন্ননয়। বমি খুব খারাপ এতে ঝুঁকি থাকে রোগীর ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আবুল কালাম গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায়। শশুরকে বাঁচাতে বাদীর স্ত্রী মোছাঃ সেলিনা বেগম এগিয়ে এলে ৮নং আসামী আনোয়ারা বেগম তাঁর চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে পেটে ও শরীরে এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করে গতকাল চিকিৎসা নিলেও তিব্র ব্যাথা হওয়ায় ১২ সেপ্টেম্বর আবারও গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ছাড়া বাদীর মেয়ে মোছাঃ মিমি আক্তার উদ্ধার করতে এলে ৪নং ও ৬নং আসামীরা তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে তিনিও প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এছাড়াও হামলার একপর্যায়ে বাদীর মেয়ে মিম আক্তারের গলা থেকে ১ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ৭,০০০ টাকা) এবং বাদীর ১টি ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোন (IMEI-সহ মূল্য প্রায় ২০,০০০ টাকা) ছিনিয়ে নেয় আসামীরা।
প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে খুনের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত ও গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।











