৪০ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসানে প্রিয় শিক্ষিকাকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে ‘রাজকীয়’ বিদায় জানালেন তাঁর প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। বিদায়ের মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সবাই। অশ্রুসিক্ত চোখে প্রিয় শিক্ষিকাকে বিদায় জানান শিক্ষার্থীরা।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দেওয়ানীয়া বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জোৎস্না আরা বেগমের অবসর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ গণসংবর্ধনা ও বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
সমাজসেবক আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবক মফিজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বইলর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সমাজসেবক মনিরুজ্জামান সোমেল, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মিলন, প্রাক্তন শিক্ষক মজিবুর রহমান, প্রধান শিক্ষক আয়েশা মোস্তারি, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ, ১৯৮৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী সুজন, ১৯৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওসমান গনি ও মামুন মিয়া, ১৯৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সেলিম ফরাজী, মুফতি মাওলানা সোহাইল মিয়া, মো. রাসেল, সহকারী শিক্ষিকা তাসলিমা বেগমসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষিকার উদ্দেশে মানপত্র পাঠ করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নূরে গুলশান। বক্তারা জোৎস্না আরা বেগমের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে তাঁর অবদান ও মানবিক গুণাবলির প্রশংসা করেন।
আয়োজক সেলিম ফরাজী বলেন, ‘জোৎস্না ম্যাডাম অত্যন্ত ভদ্র ও নরম মনের মানুষ ছিলেন। দীর্ঘ ৪০ বছর তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো আদর-স্নেহ দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও মূল্যবোধ আমাদের চলার পথে চিরদিনের প্রেরণা হয়ে থাকবে।’
আয়োজকেরা জানান, দীর্ঘ চার দশকের শিক্ষকতা জীবনে জোৎস্না আরা বেগম অসংখ্য শিক্ষার্থীকে স্নেহ-মমতা ও আদর্শের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন। তাঁর অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে অবসরের এই মুহূর্তে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর বিদায়টি ছিল অত্যন্ত আবেগের।
অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ একপর্যায়ে মিলনমেলায় পরিণত হয়। কেউ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, আবার কেউ প্রিয় শিক্ষিকার সঙ্গে পুরোনো দিনের স্মৃতি ভাগ করে নেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্মৃতিচারণে তৈরি হয় হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ।
পরে ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে জোৎস্না আরা বেগমকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে রাজকীয়ভাবে বিদায় জানানো হয়। এ সময় প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর চোখে ছিল অশ্রু। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগে তাঁকে বিদায় জানান উপস্থিত সবাই।
চার দশকের শিক্ষকতা জীবনের শেষ দিনে এমন ব্যতিক্রমী বিদায় পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জোৎস্না আরা বেগম। প্রিয় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় তাঁর বিদায় অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় স্মরণীয় এক আয়োজনে।











