গ্রামবাসী ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, লিজা ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের মতো আচরণ ও চলাফেরা করতেন। তিন বছর আগে তিনি নিজ ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন এবং পরবর্তীতে ফিরে আসেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনিফার সাথে তার পরিচয় হয় এবং জেনিফা নিয়মিত লিজাদের বাড়িতে এসে দীর্ঘ সময় বসবাস করতেন।
জেনিফার ভাষ্যমতে, তারা একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং একসাথে থাকতেন। লিজা ঢাকায় হরমোন চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। লিজার অস্ত্রোপচারের জন্য তার মা, বাবা ও বোন দেড় লাখ টাকা দেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর সেই টাকায় ঢাকার পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে 'সরফরাজ' নামে তাকে ভর্তি করা হয়।
অস্ত্রোপচারের আগের সম্মতিপত্রে লিজার স্ত্রী পরিচয়ে স্বাক্ষর করেন জেনিফা। নারী হয়ে আরেক নারীর স্ত্রী হিসেবে স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি জানান, লিজার বাবা-মায়ের সম্মতি নিয়েই তিনি ওই স্বাক্ষর করেছিলেন।
তবে লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার দাবি করেন, জেনিফার স্বাক্ষর বা অস্ত্রোপচারের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। লিজার নাম যে সরফরাজ রাখা হয়েছিল, তা তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, লিজা পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমন কথা তিনি লিজার মায়ের মুখে শুনেছেন। পরিবারের কোনো সিদ্ধান্তে তার মতামত নেওয়া হয় না বলেও জানান এই মুক্তিযোদ্ধা।
লিজার মা ফজিলা বেগম জানান, লিজা ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের পছন্দ করতেন না এবং তাকে জোর করে দুবার বিয়ে দেওয়া হলেও তিনি সংসার করেননি। জেনিফার সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে তারা অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিষয়টি ইসলাম সমর্থন করে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ইসলাম সমর্থন করে না জেনেই মোবাইলে এমন ঘটনা অনেক দেখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালের মৃত্যু সনদে লিজাকে পুরুষ ও তার নাম 'সরফরাজ' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের এডমিন পরিচয়দানকারী লিমন এবং জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সদুত্তর না দিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তিনি সংযোগ কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি।











