ময়মনসিংহের ত্রিশালের ত্রিশাল শহরের পানের আড়তের সামনে স্ত্রীর সঙ্গে কথিত পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে বুলু নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত বুলুকে উদ্ধার করে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিশালের এক নারীর সঙ্গে বুলু নামের ওই ব্যক্তির কথিত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগ জানতে পারেন ওই নারীর স্বামী। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। এরই জেরে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রিশালের পানের আড়তের সামনে বুলুকে দেখতে পেয়ে ওই নারীর স্বামী তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলুকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর পানের আড়ত ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলেও এভাবে প্রকাশ্যে হামলা চালানো আইনসম্মত নয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তাঁদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে উদ্বেগ তৈরি করছে।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে স্ত্রীর সঙ্গে বুলুর কথিত পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ এবং হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।











