সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ বেসামরিক নাগরিক ও যে কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর পরিচালিত সব ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা ও দৃঢ় বিরোধিতা জানায়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব সরকার এবং দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম সাধারণ জনগণের প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান সময়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশের এই কূটনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী বলে মনে করছেন দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
ওই বিবৃতিতে আরও বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একই সঙ্গে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, দেশের অখণ্ড ভৌগোলিক সীমানা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন আবারও জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও সার্বিক নিরাপত্তা গোটা বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের উসকানি বা সশস্ত্র আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশ্ব তথা বিশ্ব সম্প্রদায়ের একযোগে সোচ্চার হওয়া এবং যৌথভাবে কাজ করা উচিত বলে জোরালোভাবে মনে করে বাংলাদেশ।
বিশেষ করে আঞ্চলিক শান্তি, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সবসময় তার কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান অব্যাহত রাখবে। স্বাধীন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল মন্ত্র ও ভিত্তি হলো—সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়। সেই চিরন্তন নীতির আলোকেই বাংলাদেশ সবসময় যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর পাশে আস্থার প্রতীক হিসেবে এসে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কূটনীতির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।











