গাইবান্ধায় যাত্রীবেশে অটোরিকশা ভাড়া করে এক প্রতিবন্ধী চালককে বিষাক্ত জুস খাইয়ে তার জীবিকার একমাত্র সম্বল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী চালকের নাম মানিক মিয়া (৪০)। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ঝিনেশ্বর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে মানিক মিয়া জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। সকাল ৯টার দিকে শহরের দাস বেকারির মোড়ে পৌঁছালে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ধর্মপুর জুটমিলে যাওয়া-আসার কথা বলে ৪০০ টাকায় অটোরিকশাটি ভাড়া করে। দিনভর শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরার পর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে চালক মানিক মিয়াকে সুন্দরগঞ্জ পূর্বপার্কের সামনে নিয়ে যায় ওই যাত্রী।
সেখানে গিয়ে তৃষ্ণা মেটানোর কথা বলে চালক মানিক মিয়াকে একটি জুস কিনে আনতে বলা হয়। জুস নিয়ে আসার পর কৌশলে চক্রের সদস্য নিজে একটু পান করে মানিক মিয়াকেও পান করায়। জুস পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মানিক মিয়া চেতনা হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার সাথে থাকা বাটন মোবাইল ফোন, নগদ ৪০০ টাকা এবং ব্যাটারিসহ আনুমানিক ৮০,০০০ টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি নিয়ে চম্পট দেয়।
পরে স্থানীয় এক সাংবাদিক মানিক মিয়াকে রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। রাত ১১টার দিকে ফেসবুকের সেই পোস্ট দেখে পরিবারের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
সুস্থ হওয়ার পর ভুক্তভোগী চালক পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে গাইবান্ধা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গত ২৭ আগষ্ট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ সুপার নির্দেশে ৩ তারিখে আবার একটি অভিযোগ পত্র জমা দেন সদর থানায়। সদর থানা পুলিশ দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর গাইবান্ধা সদর থানা থেকে মানিক মিয়াকে সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ পত্র জমা দিতে বলেন। এরপর তিনি গত ৫ সেপ্টেম্বর আবার অভিযোগ পত্র জমা দেন। দায়িত্ব পরে এএসআই ইদ্রিস তদন্ত ওপর তদন্ত ভার
আজ,৮ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজিব জানান, বিষয়টি সুন্দরগঞ্জ থানায় অবগত করছি। তার আগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধারের জন্য থানাকে নির্দেশ দেন। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি বলেন তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানান।











