নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে সুড়ঙ্গে টানা ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন কবির মহরজন নামের এক জলবিদ্যুৎকর্মী। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ওই দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বতজুড়ে এক হাজার তিনশতের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
ঘটনার দিন সকালে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে কাজে যোগ দিয়েছিলেন কবির। এর কিছুক্ষণ পরই লাংটাং লিরুং পর্বতের হিমবাহ ধসে ত্রিশূলী উপত্যকার ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ে। এতে প্রায় ৯০০ কর্মী আটকা পড়েন।
কবিরের সঙ্গে যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় শাহও একটি ছোট সুড়ঙ্গের কোণায় আটকা পড়েন। সেখানে বাতাস থাকায় এবং পকেট আকরের ওই জায়গায় বেঁচে থাকার সামান্য সুযোগ পাওয়ায় তারা দীর্ঘ ৯ দিন টিকে ছিলেন। কবির কাদাপানির ভেতর শুয়ে থেকে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য মাঝেমধ্যে সেই পানি অল্প অল্প পান করতেন। অন্যদিকে সঞ্জয় মনোবল ধরে রাখতে নিয়মিত প্রার্থনা করতেন।
এদিকে বাড়িতে কবিরের স্ত্রী হীরা শোভা স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে গভীর হতাশায় ভেঙে পড়েন। তবে দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি সাহস ধরে রাখেন।
দুর্যোগের পর ধ্বংসস্তূপ ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সুড়ঙ্গগুলো কাদা ও পাথরে পুরোপুরি চাপা পড়েছিল। ভারী যন্ত্রপাতি, ড্রিলিং এবং নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে উদ্ধারকর্মীরা সামনের পথ তৈরি করেন। ৫ ইঞ্চি ব্যাসের একটি ড্রিল করা গর্ত দিয়ে সুড়ঙ্গের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ধরে খননকাজ চালান।
অবশেষে প্রকৌশলী ও উদ্ধারকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সুড়ঙ্গ থেকে কবির মহরজন ও সঞ্জয় শাহকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের এই বেঁচে ফেরার ঘটনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত উপত্যকাটিতে চলমান উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখনো সুড়ঙ্গগুলোতে অনেক কর্মী আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সফল উদ্ধার অভিযান উদ্ধারকর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।











