যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতার কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে বিভাগটিতে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকসহ মোট পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। এর পাশাপাশি, পদোন্নতির সব যোগ্যতা অর্জন করা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সাতজন শিক্ষক। ফলশ্রুতিতে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে বিভাগটির একাডেমিক কার্যক্রম এক প্রকার স্থগিত রয়েছে।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের একাধিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা বাতিল বা সংশোধিত হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৪ মে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা তৈরি হলে ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি ড. মো. হুমায়ুন কবির হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই জটিলতার চূড়ান্ত নিরসন না হওয়ায় সামগ্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে গেছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও একাডেমিক কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে মীমাংসার একাধিক তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।
শূন্য পদগুলো পূরণ না হওয়ায় বর্তমান শিক্ষকদের ওপর পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। শুধু সহযোগী অধ্যাপক পদেই নয়, প্রভাষক পর্যায়ের শিক্ষকদের স্থীকরণ, পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়াও আটকে আছে। এর ফলে শিক্ষকদের পেশাগত ক্যারিয়ারের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেকের উচ্চশিক্ষা ও পিএইচডিতে যাওয়ার সুযোগও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষকদের এই সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। স্কলারশিপ, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন কিংবা চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশপত্র (রিকমেন্ডেশন লেটার) পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এতে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অবিলম্বে শূন্য পদ পূরণ, যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন নিশ্চিত করা এবং একাডেমিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ তার হারানো গতি ফিরে পাবে।











