নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আইকন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নিজস্ব ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বুধবার (১৯ আগস্ট) দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস পরিণত হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মিলনমেলায়।
শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের পরিচিত করে তুলতে প্রতি বছরই নানা আয়োজন করে থাকে আইকন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রায় ৮০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্য, গজল ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেয়। তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে তোলে। সুর, ছন্দ ও আবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির নানা দিকও ফুটিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে আইকন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক ও অধ্যক্ষ শেখ জাহিদুল ইসলাম রাহীম শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা, নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাটকের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরাই এই দেশের ভবিষ্যৎ। আজকের মঞ্চে তোমাদের যে আত্মবিশ্বাস ও প্রতিভার প্রকাশ দেখলাম, তা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধরে রাখতে হবে।”
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ জাহিদুল ইসলাম রাহীম বলেন, সন্তানদের শুধু পড়াশোনার জন্য চাপ না দিয়ে তাদের ভালো লাগা ও প্রতিভার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে উৎসাহিত করতে হবে। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে তারা সবসময় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো জিপিএ অর্জন নয়; বরং প্রতিটি শিশুকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভেতরের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার জন্য আমরা একটি সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধপরিকর।”
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, অভিভাবকদের উৎসাহ এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আনন্দঘন ও স্মরণীয়। আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।











