ফরিদপুরের নগরকান্দায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী কহিনুর বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে স্বামী লিটন মিয়া ওরফে লিটুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অপরাধের আলামত ও মরদেহ গুম করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় আসামিকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত জানিয়েছেন, উভয় দণ্ড একই সঙ্গে কার্যকর হবে। তবে রায়ের সময় আসামি অনুপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত লিটন মিয়া নগরকান্দা উপজেলার শশা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে লিটন মিয়ার সঙ্গে কহিনুর বেগমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে কহিনুরের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন লিটন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। একপর্যায়ে কহিনুরকে না জানিয়ে লিটন দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেন। বাড়ি ছেড়ে না দিলে কহিনুরকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৭ আগস্ট রাতে কহিনুর বেগম তাঁর মেয়েসহ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ে জেগে উঠে মাকে বিছানায় না পেয়ে পাশে থাকা ভাইকে জানায়। এরপর ভোরে স্বজনেরা বাড়ির দক্ষিণ পাশের পুকুরপাড়ে কহিনুরের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে আসামির অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ এতে সন্তুষ্ট।”











