ময়মনসিংহের ত্রিশালে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত মোছা. লাবনী আক্তার (৩৩) বর্তমানে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি দুই সন্তানের মা।
লাবনী আক্তারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম (৪০) তাকে মারধর করেন। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে হাসপাতালের নতুন ওয়ার্ডের বি-১২ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
লাবনী জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে ত্রিশাল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দরিরামপুর বরকোমা গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। মেয়ের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বিয়ের সময় তার দরিদ্র বাবা-মা একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার পাশাপাশি জমি বিক্রি করে দুই লাখ টাকা ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
লাবনীর বাবার বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায়। তার বাবা মারা গেছেন এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে জানা গেছে।
লাবনীর অভিযোগ, গত দুই থেকে আড়াই বছর ধরে তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্বামী, শ্বশুর আব্দুল কাদির (৬৮) ও শাশুড়ি আয়েশা খাতুন (৬০) তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ২৪ জুলাই তাকে মারধর করা হলে মাথা, ঠোঁট, বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। সে সময় সন্তানদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তখনও সংসার চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন লাবনী।
লাবনীর দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে আবারও তাকে মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লাবনী আক্তার বলেন, “আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর ঘরে শান্তিতে থাকতে চাই। আমি বাঁচতে চাই। আমাকে যেন আর নির্যাতন করা না হয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী আশরাফুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা ভুক্তভোগী নারী ও তার দুই সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।











