এস এম মিঠু, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভিযোগে তিনটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে সিকদার ডাইন, বৈশাখী রেস্তোরাঁ ও ঈঁশাখা মিষ্টি ঘরকে ২ লাখ টাকা করে, মোট ৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হলে তা সরাসরি ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল ফাইরুজ তাসনিম। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকে খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত ও বিক্রির প্রতিটি ধাপে নিরাপদ খাদ্য আইন ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, খাদ্যদ্রব্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়।
অভিযানে সার্বিক সহায়তা করেন মো. মোশাররফ হোসেন (মুর্শিদ), স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বায়েজিদ, পেশকার, কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের নীতিমালা অনুসরণ না করা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি বিধি অনুযায়ী অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। খাদ্যে অনিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এমন অভিযানে স্থানীয় ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে শুধু জরিমানা নয়, অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।











