জাহাঙ্গীর আলম, গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি: সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহে লোডশেডিং করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি দাবি করেন, সরকারিভাবে জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে, শফিউদ্দিন আহমেদ গাংনী জোনাল অফিসে যোগদানের পর থেকেই অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া গভীর নলকূপে সংযোগ দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিভিন্ন অজুহাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কৃষকদের সেচ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার কারণ জানতে চাইলে ডিজিএম শফিউদ্দিন আহমেদ তাদের জানান, দেশে জ্বালানির অভাবে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান সরকার শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ঘোষণা দিলেও গাংনীতে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাহারবাটি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিমুদ্দিন বলেন, সরকারিভাবে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছু সমস্যা থাকলে তা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধর্মচাকী গ্রাম বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, সরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো সমস্যা নেই। কিছু কর্মকর্তা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।
তিনি আরও বলেন, গাংনী জোনাল অফিসে পূর্ববর্তী কর্মকর্তাদের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল এবং বরাদ্দও বর্তমানের সমান ছিল বলে তার দাবি।
অভিযোগের বিষয়ে গাংনী জোনাল অফিসের (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে গাংনী উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট হলেও তারা মাত্র ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। তিনি জানান, তিন দিন আগেও ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল, তবে গত তিন দিন ধরে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, সরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। কোনো কর্মকর্তা যদি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। গাংনীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। গাংনীতে কেন লোডশেডিং হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।











