নাটোরের সিংড়ায় জলাশয়ের পানিপ্রবাহ ও মাছের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ স্রোতিজালের কাঠামো অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার কালিনগর ও বিলদহর ভাটোপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অসাধু চক্র জলাশয়ে অবৈধভাবে স্রোতিজাল ও স্থায়ী কাঠামো তৈরি করে মাছ শিকার করে আসছে। এর ফলে জলাশয়ে মাছের অবাধ বিচরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়। এমন অবৈধ কাঠামোর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কালিনগর ও বিলদহর ভাটোপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি বড় ধরনের অবৈধ স্রোতিজালের কাঠামো সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হয়।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট জলাশয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও গতিশীলতা ফিরে আসবে। এর ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের চলাচল ও প্রজননের পরিবেশ আরও অনেক বেশি অনুকূল হবে। পাশাপাশি সামগ্রিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অবৈধভাবে স্থাপিত স্রোতিজাল ও বাঁশের বেড়া শুধু মাছের চলাচলেই বাধা সৃষ্টি করে না, বরং এটি সম্পূর্ণ জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও ধ্বংসাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রশাসনের এ ধরনের সময়োপযোগী ও সাহসী অভিযান অব্যাহত থাকলে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং জলাশয় রক্ষা করা আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এবং পরিবেশের সুরক্ষায় জলাশয়ের পানিপ্রবাহ, মৎস্যসম্পদ ও জলজ পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ স্রোতিজালসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ দখল ও প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর অভিযান আগামীতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।











