মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলা গ্রামের গাছপ্রেমী ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন। গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করা যার নেশা। একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও গাছের প্রতি তাঁর এই ভালোবাসা বর্তমান জামানায় বিরল। তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলা গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম সরোয়ার হোসেনের মেজো ছেলে। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত লিখন মেহেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও জিএস, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের অন্যতম সদস্য। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, গাছ পরিচর্যা ও গাছ লাগানো তাঁর এক নেশায় পরিণত হয়েছে।
দায়িত্বের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে গিয়েই সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন। গাছ লাগাতে হবে, পরিবেশ বাঁচাতে হবে—এই চেতনা থেকেই তিনি সবুজায়নের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। গাংনী উপজেলা থেকে মেহেরপুর জেলা—বিভিন্ন এলাকায় তাঁর গাছ লাগানোর উদ্যোগ ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। রাস্তার দুপাশে, পুকুরপাড়ে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সীমানায় কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমিতে তিনি গাছ লাগিয়ে চলেছেন।
তাঁর বিশ্বাস, শুধু কথা বললে পরিবেশ রক্ষা হবে না, পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজন বাস্তব কাজ। গাছ ছাড়া পরিবেশ একদিন মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে—এমন উপলব্ধি থেকেই তাঁর এই নিরন্তর প্রয়াস। বাড়ির আঙিনা থেকে মসজিদের সীমানা—যেখানেই সুযোগ পান, সেখানেই গাছ লাগানোর চেষ্টা করেন তিনি।
শুধু নিজে গাছ লাগানো নয়, অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক। এমনকি তাঁর রয়েছে বটগাছের নার্সারি, যেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষকে বিনামূল্যে চারা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন জানান, মেহেরপুরের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানেও তিনি গাছ রোপণের চেষ্টা করবেন।
বিশেষ করে পীর-আউলিয়াদের স্মৃতিবিজড়িত কবরস্থান ও আশপাশের এলাকায় বৃক্ষরোপণের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর কাছে বৃক্ষ কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, বরং মানুষের ভবিষ্যৎ জীবন ও পরিবেশের নিরাপত্তার অন্যতম অবলম্বন। তাই সবুজায়নের পাশাপাশি সমাজের নানা কল্যাণমূলক কাজেও তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। মানবিকতা, পরোপকার, ধর্মীয় চর্চা ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে তাঁর জীবনচর্চার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের জন্য কিছু করা, অন্যের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের সামর্থ্যকে সমাজের কাজে লাগানো তাঁর ভাবনার অংশ। তাঁর চলার পথে পারিবারিক প্রেরণার কথাও উল্লেখ করা যায়। তাঁর বাবা ছিলেন গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের একাধিকবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। বাবার সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার মানসিকতা তাঁর মধ্যেও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা যায়। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর যেমন পরিচয় রয়েছে, তেমনি সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি।
সৃষ্টিশীলতার প্রতিও তাঁর রয়েছে গভীর টান এবং মানুষের প্রতিভাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে, প্রয়োজন শুধু সেটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। এই চিন্তা থেকেই নিজের প্রতিভাকে যেমন বিকশিত করার চেষ্টা করেন, তেমনি অন্যদেরও উৎসাহিত করেন। বহুমাত্রিক প্রতিভার আদিত্য আলোয় তাঁর চলা যেন সমাজ ও মানুষের কল্যাণের সঙ্গে একাকার।
গাংনী উপজেলা ছাড়িয়ে মেহেরপুর জেলাব্যাপী তাই ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখনের পরিচিতি তৈরি হয়েছে নানা কর্মের মধ্য দিয়ে। তাঁর কর্মকাণ্ডে রাজনীতি আছে, কিন্তু তার বাইরেও রয়েছে মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা। গাছপ্রেমী এই মানুষটির কাছে একটি চারা রোপণ মানে ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখা। একটি গাছ যেমন ছায়া দেয়, অক্সিজেন দেয়, পরিবেশকে রক্ষা করে—তেমনি মানুষের হৃদয়েও সৃষ্টি করতে পারে মমত্ববোধ। সেই মমত্ববোধ থেকেই তিনি সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিতে চান। তাঁর স্বপ্ন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোও সবুজের ছায়ায় ঢেকে উঠুক। মানবপ্রেম, ধর্মীয় মূল্যবোধ, আধ্যাত্মিকতা ও পরোপকারের ভাবনা তাঁর কর্মের সঙ্গে পাশাপাশি এগিয়ে চলেছে। ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখনের পথচলায় তাই বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কাজ নয়, এটি তাঁর জীবনদর্শনেরও একটি অংশ।
নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের জন্য কিছু করে যাওয়ার এই মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। সবুজ পৃথিবীর স্বপ্নে তাঁর হাতে রোপিত প্রতিটি চারা যেন আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া এক একটি নীরব অঙ্গীকার। সমাজ, মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে তাঁর এই পথচলা আরও বিস্তৃত হোক—এমন প্রত্যাশাই তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের।











