‘বেগম খালেদা জিয়ার ফাঁসি চেয়েছিলেন কাজী লিটু, এখন তিনি বিএনপি নেতা’—এমন শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও নারায়ণগঞ্জভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত বলে দাবি করেছেন কাজী লিটু।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং যথাযথ তথ্য-প্রমাণ যাচাই না করেই প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কাজী লিটুর ভাষ্য, তিনি যদি সত্যিই কোনো রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এমন কটূক্তি করে থাকেন, তাহলে সেই বক্তব্যের ভিডিও, অডিও কিংবা প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বক্তব্য থাকার কথা। কারণ বর্তমানে মাঝারি পর্যায়ের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেও বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক ক্যামেরা নিয়ে উপস্থিত থাকেন। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা সমাজের সূর্যসন্তান ও কলমযোদ্ধা। আপনাদের সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সমাজ আলোকিত হয়। তাই আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে কাজী লিটু বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাবা কাজী নজরুল ইসলাম টিটু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাগো দল এবং পরবর্তীতে বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রদলের নারায়ণগঞ্জ শহর শাখার তৎকালীন ১৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ নারায়ণগঞ্জ কলেজ, শহর ও জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে তিনি যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা রাখার দাবি করেন তিনি।
২০১২ সালের ১২ মে ইতালিতে প্রবাসী হওয়ার পরও নারায়ণগঞ্জের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান কাজী লিটু। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং অনেক নেতাকর্মীর জামিনে সহায়তা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদে একটি কোম্পানিকে জায়গা দখল করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কাজী লিটু। তিনি বলেন, “যে জমির মালিক আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন, তাঁকে আমার মুখোমুখি করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি হবে, আমি তা মাথা পেতে নেব। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেই দায়ও সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।”
নিজেদের পারিবারিক সম্পদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্বপুরুষের সময় থেকেই তাঁদের পরিবার বিপুল সম্পত্তির মালিক। ফলে অন্যের জমি দখলের মতো কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতির শেষাংশে কাজী লিটু বলেন, কারও বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়া মিথ্যা অপবাদ দেওয়া উচিত নয়। কারণ একটি মিথ্যা সংবাদ বা অপবাদ একজন মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিজীবনে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তিনি তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে পুনরায় অনুসন্ধান করে সত্য ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তবে তাঁর এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম বা অভিযোগকারী পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকাশিত অভিযোগের সত্যতা ও তাঁর দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।











