বিপ্লব কুমার দাস, স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে গভীর রাতে হঠাৎ মশাল মিছিল করেছে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী। গোপনে আয়োজিত এই মশাল মিছিলের একটি দৃশ্যচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সমগ্র জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নানামুখী আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বস্তরের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় ঝটিকা এই মশাল মিছিলটির আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে ওই মিছিলের ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ আপলোড করেন। প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন যুবক হাতে জ্বলন্ত মশাল নিয়ে অলিগলিতে বিভিন্ন দলীয় ও রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার প্রত্যক্ষ নির্দেশেই ভাঙ্গা উপজেলা শাখা ছাত্রলীগ কর্মী কায়েসের সার্বিক নেতৃত্বে এ মিছিলটি সুসংগঠিত ও পরিচালিত হয়েছিল।
অন্যদিকে, একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মহড়া প্রদর্শন নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু জানান, উক্ত মিছিলটি সম্পর্কে পুলিশের কাছে পূর্ববর্তী কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল না। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ক্লিপটি ইতিমধ্যে তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।











