নির্মাণের চার বছর পেরিয়ে গেলেও জনবল সংকটের কারণে চালু হয়নি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ফলে ইউনিয়নবাসীকে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে ছুটতে হচ্ছে উপজেলা কিংবা জেলা শহরে। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে জরুরি কাজ ফেলে দিনের বড় একটি সময় অফিসের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২২ সালে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর চার বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সরকারি এই সেবা প্রতিষ্ঠানটি চালু হয়নি। ফলে জমির খাজনা দেওয়া, নামজারি, খতিয়ানসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা নিতে রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের উপজেলা বা জেলা শহরে যেতে হচ্ছে।
ভূমি অফিস চালু না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরবর্তী এলাকার সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা। অনেকের জন্য উপজেলা কিংবা জেলা শহরে যাতায়াতের খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি একটি সেবার জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা নিশ্চিত করার যে উদ্দেশ্যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তা পূরণ হচ্ছে না।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ভবনটির বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। এছাড়া বৈদ্যুতিক মিটারসহ ভবনে থাকা বিভিন্ন মালামাল চুরি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি চালু করা হলে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। ইউনিয়ন পর্যায়েই ভূমি সংক্রান্ত সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা সরকারি ভবনটিরও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস চালু না হওয়ার কারণ হিসেবে জনবল সংকটের কথা জানিয়েছেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পার্থ প্রতীম শীল। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত নিয়োগ দিয়ে চার বছর ধরে পড়ে থাকা ভূমি অফিসটি চালু করা হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।











