নাটোরের সিংড়ায় মাদক, জুয়া, চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
সভায় উপজেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি গত ২৪ আগস্ট সংঘটিত আনোয়ার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, শুধু প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো অপরাধ বা অপরাধীর বিষয়ে তথ্য জানা গেলে তা গোপন না রেখে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সিংড়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ ১০ থেকে ১২টি স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিংড়া পৌরসভাকে। একই সঙ্গে বাজার এলাকায় পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ধূমপান ও মোবাইল ফোনের অপব্যবহার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জুমার খুতবায় মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইমামদের সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।
কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিশের পরিবর্তে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশের মাদক ও জুয়া বিরোধী কার্যক্রমের মাসিক প্রতিবেদন নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম, সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।











