গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুলশিক্ষকের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে আদালতের ১৪৪/১৪৫ ধারার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা সত্ত্বেও সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা রেকর্ড না করে উল্টো ভুক্তভোগীকে হেনস্থা করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক।
সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টায় গাইবান্ধা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
তিনি সুন্দরগঞ্জের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং লেংগাবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক মোশাররফ হোসেন জানান, প্রতিবেশী মো. আশরাফুল আলম ভূঁইয়া ও তাঁর শরিকদের সঙ্গে পারিবারিক রাস্তা ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। এর জেরে গত ৯ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষ হামিদুল ইসলাম ডাকুয়া, রোজি বেগম, মো. ইদ্রিস আলী ভূঁইয়া রাজুসহ তাঁদের দলবল লাঠি, লোহার রড, সাবল ও দা-কুড়াল নিয়ে জোরপূর্বক তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, তারা বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে আনুমানিক ২ লাখ টাকার ইট ও ফাড়াই কাঠ লুট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে স্টিলের বাক্স থেকে নগদ ১ লাখ টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১২ আনা ওজনের সোনার চেইন ও চুরি নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গৃহস্থালির অন্যান্য লোকজন বাধা দিতে গেলে তাঁদের অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
আদালতের ১৪৪/১৪৫ ধারার আদেশ অমান্যের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, গাইবান্ধার একটি আদেশের কপি (এম.আর. মামলা নং-৬১৭/২০২৪, সুন্দরগঞ্জ) প্রকাশ করা হয়।
সংযুক্ত নথিতে দেখা যায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেদুয়ানুল হালিমের বাস্তবায়িত আদেশে নালিশি জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে উভয় পক্ষকে যার যার অবস্থানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া দেওয়ানি আদালতের ভিন্ন কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই যাতে একে অপরের ভোগদখলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, বিবাদীরা আদালতের এই নির্দেশ অমান্য করে শিক্ষকের বাড়িতে হামলা চালায়।
পুলিশি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়েও তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তা মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে উল্টো তাঁকে হেনস্থা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পূর্ববর্তী ঘটনা ও সালিশ বৈঠক
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এর আগে গত ২০ এপ্রিল বিবাদীরা একইভাবে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং উঠানে ৫০-৬০টি সুপারি গাছ রোপণ করে বাঁশের চালাঘর তোলে। পরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ওসি, পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমি ও ক্ষতিপূরণ বাবদ আড়াই শতক জমি ও টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিবাদীরা তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়।
দ্রুত বিচারের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া নিজেকে একজন নিরীহ শিক্ষক উল্লেখ করে অনতিবিলম্বে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, থানায় মামলা রেকর্ড এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।











