গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত সালাউদ্দিন (২৬) নামে শিবিরকর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি মারা যান।
গত ২১ জুন বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে যুবদলের ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় ওইদিন সাইফুল ইসলাম নামে এক শিবির নেতা মারা যান।
তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার বাড়ি বোনারপাড়া শিমুল তাইড় গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের কথাকাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। এরপর উপজেলা চত্বর থেকে সবাই চলে যান।
এ ঘটনার কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ সময় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, যুবদল নেতা মোনারুল ও জব্বারসহ ৭ থেকে ১০ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিবিরকর্মী সালাউদ্দিনের ওপর হামলা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। সালাউদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাদের মধ্যে শিবির নেতা সাইফুল্লাহকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং গুরুতর আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাঘাটা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা। দীর্ঘ ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তিনি মারা যান।











