ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় একটি বালুঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার সময় ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজার (কুলুরবাড়ি) এলাকার একটি বালু বিক্রয়কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী আনসার ও র্যাব সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বালুঘাটে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় ঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ও ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে চান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পরিচয় পর্বের একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে ইউএনও সারোয়ার জাহানকে একাধিকবার চড় মারেন। পরে একটি লাঠি নিয়ে তাকে আঘাত করতেও দেখা যায়। ফুটেজে উপস্থিত অন্য কর্মকর্তাদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ইজারাদার পক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি ভিডিওটি দেখেছি। ইউএনও যে আচরণ করেছেন, সেটি পেশাদারিত্বের মধ্যে পড়ে না। কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করতে হয়; মাঠপর্যায়ে কোনো ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার সুযোগ আইনে নেই।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন নাগরিকরা বিষয়টিকে প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার ও দায়িত্বশীল আচরণের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া হয়, সেদিকে নজর রয়েছে স্থানীয়দের।











