আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সর্বসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিজিবির উদ্যোগে এক বিশেষ নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং উৎসবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় ৩ বিজিবি পানছড়ি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন লোগাং জোন ও ৩ বিজিবির জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন দুর্গোৎসব ঘিরে পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং যেকোনো প্রাকৃতিক বা আকস্মিক দুর্যোগে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, "উৎসবের দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। পাহাড়ে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।"
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে কোনো প্রকার অশুভ শক্তি যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত চৌকিগুলোতেও বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হয়েছে।
উক্ত সভায় পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ, উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার, ৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মতিন ও মো. শাহ আলম এবং ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ লিটন বৈষ্ণবসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।











