নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মেধা ও যোগ্যতাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে স্থানীয় চাকরিপ্রার্থী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম ও নীতিমালা মেনে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। অভিযোগ রয়েছে, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য ও প্রকৃত বেকার যুবক-যুবতীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তার বিপরীতে প্রভাবশালীদের আত্মীয়-স্বজন এবং অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, পর্দার আড়ালে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রকাশ্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার নামে কেবল লোকদেখানো প্রহসন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, "আমাদের পরীক্ষা অনেক ভালো হওয়া সত্ত্বেও অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় আমাদের নাম তালিকায় আসেনি। অথচ অযোগ্য ব্যক্তিরা ক্ষমতার জোরে চাকরি পেয়ে গেছে।"
এদিকে, আজ ২০ আগস্ট লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই চাকরিপ্রার্থীদের মাঝে অসন্তোষ আরও ঘনীভূত হয়েছে। দেশের অন্যান্য উপজেলার মতো লোহাগড়াতেও এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবি তুলেছেন স্থানীয় ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ। অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতি বন্ধ না হলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।











