জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদে বগুড়ায় সাত আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের বগুড়া ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সাত আইন কর্মকর্তা।
পদত্যাগকারীরা হলেন—অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি, অতিরিক্ত জিপি অ্যাডভোকেট এমদাদুল ইসলাম, এপিপি অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ এবং অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান সবুজ।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে বগুড়া জজ কোর্টে এসব আইনজীবী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন ল’ইয়ার্স কাউন্সিল বগুড়া ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম আকন্দ, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক, অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান সবুজ, অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দীন সাইফুল, অ্যাডভোকেট দলিলুর রহমান, অ্যাডভোকেট আল-আমিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পদত্যাগের পর এপিপি অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের বিরোধিতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারপতি নিয়োগে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাব জুলাইয়ের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি বলেন, এসব ঘটনায় সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিবেকের তাড়নায় তিনি আর এ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











