মানবজাতির জন্য শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও কল্যাণের শিক্ষা নিয়ে আসা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণে আজ সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় মুসলিমরা দিনটি পালন করছেন।
হিজরি বর্ষপঞ্জির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করা হয়। প্রচলিত ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আনুমানিক ৫৭০ বা ৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মদিনের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ থাকলেও ১২ রবিউল আউয়াল বহুল প্রচলিত।
মহানবী (সা.) তাঁর জীবনের ৬৩ বছর মানুষের কল্যাণ, ন্যায়, সত্য, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা প্রচারে ব্যয় করেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ মুসলিমদের জন্য অনুসরণীয় হিসেবে বিবেচিত।
প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) ১১ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাতের তারিখ হিসেবেও ১২ রবিউল আউয়াল বহুলভাবে উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়েও ঐতিহাসিক ও ইসলামি সূত্রে মতভেদ রয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া, মিলাদ মাহফিল, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা অনুসরণ করে মানুষের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা প্রদর্শন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি মুসলিমদের কাছে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর আদর্শকে ব্যক্তিজীবন ও সমাজে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারেরও উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত।











